সামগ্রিক কার্যক্রম

/সামগ্রিক কার্যক্রম
সামগ্রিক কার্যক্রম 2019-04-15T15:04:36+06:00

পরিচালন কার্যক্রম

জিটিসিএল-এর ১০”, ১২”, ২০”, ২৪”, ৩০” এবং ৩৬” ব্যাসের ৯৬০-১০৫০ পিএসআইজি চাপ বিশিষ্ট মোট ১৬৫১.৪৩ কিঃমিঃ দৈর্ঘ্যের উচ্চচাপ বিশিষ্ট গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইনের মাধ্যমে নির্ধারিত ডেলিভারি পয়েন্ট দ্বারা ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে তিতাস, বাখরাবাদ, কর্ণফুলী, জালালাবাদ, পশ্চিমাঞ্চল ও সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির প্রাধিকারভূক্ত এলাকায় যথাক্রমে ১৪৭৮.৬৭, ২৫২.৫৩, ২১৪.৮০, ১৫৯.০৯, ৫২.৭২ ও ৩৩.৩৩ কোটি ঘনমিটারসহ সর্বমোট ২১,৯১.১৪ কোটি ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ করা হয়, যা পূর্ববর্তী বছর হতে ০.৩৭% বেশী। অপরদিকে, উল্লেখিত সময়ে ৬” এবং ৪” ব্যাসের ১৯৩ কিঃ মিঃ দীর্ঘ উত্তর-দক্ষিণ কনডেনসেট পাইপলাইনের মাধ্যমে জালালাবাদ ও বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র হতে ৩৩৮০.৩৭ লক্ষ লিটার কনডেনসেট পরিবহন করা হয়, যা পূর্ববর্তী বছর হতে ৩.২৮% বেশী।

কম্প্রেসর সংক্রান্ত কার্যক্রম

আশুগঞ্জ ও এলেঙ্গা কম্প্রেসর স্টেশনদ্বয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে যথাক্রমে ১৫০০ এমএমএসসিএফডি ও ৫০০ এমএমএসসিএফডি গ্যাস সঞ্চালনের মাধ্যমে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি, লাইন প্যাক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং স্বল্প সময়ে পাইপলাইন নির্মাণের বিকল্প হিসেবে স্টেশনদ্বয় স্থাপনের নিমিত্ত আন্তর্জাতিক দরপত্র আহবানের মাধ্যমে টার্নকি ভিত্তিতে নির্বাচিত ঠিকাদার Hyundai Engineering Company Limited, Korea এর সাথে ২১-১০-২০১১ তারিখে চুক্তি সম্পাদিত হয়, যার মেয়াদ ছিল ৩০-০৬-২০১৮ তারিখ পর্যন্ত। আশুগঞ্জ কম্প্রেসর স্টেশনে ৭৫০ এমএমএসসিএফডি ক্যাপাসিটির ৩(তিন)টি কম্প্রেসর স্থাপন করা হয়েছে। তন্মধ্যে ০২(দুই)টি অপারেটিং মোড-এ চলে, যার মোট ক্যাপাসিটি (৭৫০*২)=১৫০০ এমএমএসসিএফডি, অপর কম্প্রেসরটি স্ট্যান্ড-বাই রয়েছে যার ক্যাপাসিটি ৭৫০ এমএমএসসিএফডি। আশুগঞ্জ কম্প্রেসর স্টেশনের প্রতিটি কম্প্রেসরের ডিজাইন সাকশান প্রেসার ন্যূনতম ৬৮০ পিএসআইজি এবং ডিজাইন ডিসচার্জ প্রেসার ১০০০ পিএসআইজি। অপরদিকে, এলেঙ্গা কম্প্রেসর স্টেশনে ২৫০ এমএমএসসিএফডি ক্যাপাসিটির ০৩(তিন)টি কম্প্রেসর স্থাপন করা হয়েছে তন্মধ্যে ০২(দুই)টি অপারেটিং মোড-এ চলবে, যার মোট ক্যাপাসিটি (২৫০*২)=৫০০ এমএমএসসিএফডি, অপর কম্প্রেসরটি স্ট্যান্ড-বাই হিসেবে রয়েছে যার ক্যাপাসিটি ২৫০ এমএমএসসিএফডি। এলেঙ্গা কম্প্রেসর স্টেশনের প্রতিটি কম্প্রেসরের ডিজাইন সাকশান প্রেসার ন্যূনতম ৬৫০ পিএসআইজি এবং ডিজাইন ডিসচার্জ প্রেসার ১০০০ পিএসআইজি। আশুগঞ্জ কম্প্রেসর স্টেশন চলমান থাকায় সারা দেশে বর্ধিত চাপে ১৫০-২০০ এমএমএসসিএফডি অতিরিক্ত গ্যাস সঞ্চালন করা সম্ভব হচ্ছে। 

এলএনজি সংক্রান্ত কার্যক্রম

বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্পকারখানায় সারসহ বিভিন পণ্য উৎপাদনে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা ক্রমশঃ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অথচ দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদের পরিমাণ ক্রমশই হ্রাস পাচ্ছে। দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি বাংলাদেশ লিমিটেড (ইইবিএল) কর্তৃক কক্সবাজার জেলাধীন মহেশখালী দ্বীপের অদূরে গভীর সমুদ্রে ৫০০ এমএমএসসিএফডি ক্ষমতা সম্পন্ন Floating Storage and Re-gasification Unit (FSRU) স্থাপন কাজ সমাপ্ত হয়েছে। গত ১৮-০৮-২০১৮ তারিখ হতে কক্সবাজারের মহেশখালীতে স্থাপিত FSRU হতে প্রাথমিক পর্যায়ে ১০০ এমএমএসসিএফডি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালন শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে ৩০০ এমএমএসসিএফডি কেজিডিসিএল সিস্টেমে সরবরাহ করা হয়। পরবর্তীতে আনোয়ারা-ফৌজদারহাট গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন প্রকল্পের আওতায় কর্ণফুলী রিভার ক্রসিং সম্পন্নের পর অবশিষ্ট ২০০ এমএমএসসিএফডি গ্যাসসহ আরও অতিরিক্ত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালনের সক্ষমতা অর্জিত হয়েছে।

বার্ষিক র্কমসম্পাদন সংক্রান্ত র্কাযক্রম

সরকারি কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (Government Performance Management System) এর আওতায় গত ১৪-০৬-২০১৭ তারিখে পেট্রোবাংলার  সাথে জিটিসিএল-এর ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (Annual Performance Agreement) স্বাক্ষরিত হয়। স্বাক্ষরিত চুক্তিতে আবশ্যিক কৌশলগত উদ্দেশ্যসমূহের আওতায় গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি যথা: ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ, অর্ধবার্ষিক মূল্যায়ন প্রতিবেদন দাখিল, সরকারি কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয়ে কর্মকর্তা/কর্মচারীদের জন্য প্রশিক্ষণ আয়োজন, জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়ন, তথ্য বাতায়ন হালনাগাদকরণ, সেবা প্রক্রিয়ায় উদ্ভাবন কার্যক্রম বাস্তবায়ন, অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা বাস্তবায়ন ইত্যাদি কার্যক্রম চুক্তিভূক্ত লক্ষ্যমাত্রা মোতাবেক অর্জিত হয়েছে। পেট্রোবাংলার সাথে জিটিসিএল-এর ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (Annual Performance Agreement)-এর কৌশলগত উদ্দেশ্য এবং আবশ্যিক কৌশলগত উদ্দেশ্যসমূহের আওতাভূক্ত যাবতীয় কার্যাবলি সম্পাদনপূর্বক বার্ষিক মূল্যায়নে সর্বমোট ৯৪.০৪ স্কোর অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সামগ্রিক উদ্যোগের সহায়ক কৌশল হিসেবে ‘সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়’ নিয়ে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করা হয়েছে। এ কৌশলটির রূপকল্প (Vision)) হচ্ছে সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা। বাংলাদেশের সংগ্রামী মানুষের এটিই কাঙ্খিত গন্তব্য। সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবে। এ প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় ও পেট্রোবাংলার নির্দেশনানুযায়ী কোম্পানিতে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের নিমিত্ত গঠিত কমিটির মাধ্যমে এ বিষয়ে কার্যক্রম সম্পাদন করা হয়। কমিটি ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের জন্য কোম্পানিতে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল কর্ম-পরিকল্পনা ও অগ্রগতি পরিবীক্ষণ কাঠামো’ সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে। বর্ণিত কার্যক্রমের মাসিক সভার কার্যবিবরণী ও ত্রৈমাসিক অগ্রগতি প্রতিবেদন পেট্রোবাংলায় প্রেরণ করা হয়। উক্ত অর্থবছরের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হার সন্তোষজনক।

উদ্ভাবনী

জনপ্রশাসনে কাজের গতিশীলতা ও উদ্ভাবনী দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নাগরিক সেবা প্রদান প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও নতুন পন্থা উদ্ভাবন ও চর্চার লক্ষ্যে জিটিসিএল কর্তৃক ইনোভেশন টিম গঠন করা হয়। ইনোভেশন টিমের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোম্পানির আইডিয়া বক্স হতে প্রাপ্ত আইডিয়া অনুযায়ী জিটিসিএল-এর ওয়েবসাইটটি সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে ডাইনামিক, রেস্পন্সিভ ও ইন্টার‌্যাক্টিভ ফিচারসহ ডেভেলপ করা হয়েছে। জিটিসিএল প্রধান কার্যালয় ভবনে স্থাপিত আইডিয়া বক্স ছাড়াও অনলাইনে আইডিয়া জমাদানের জন্য একটি ওয়েব প্লাটফর্মও ওয়েবসাইটে সংযুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া, প্রধান কার্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে ডিভিশন ও ডিপার্টমেন্টের অবস্থান সংবলিত একটি ডিজিটাল দপ্তর বন্টন নির্দেশক (Digital Display Board) স্থাপন করা হয়েছে যার মাধ্যমে স্টেক হোল্ডারগণ নির্দিষ্ট কর্মকর্তার নিকট হতে সেবা গ্রহণ করতে পারে।

তথ্যপ্রযুক্তি

কোম্পানির দাপ্তরিক কাজে গতি বৃদ্ধি এবং স্বচ্ছতা আনয়নের লক্ষ্যে ডাক ব্যবস্থাপনা, নথি ব্যবস্থাপনা, সকল প্রকার অনুমোদন, বাজেট সম্মতি, প্রশিক্ষণ মনোনয়ন, প্রশিক্ষণ প্রতিবেদন জমাদান এবং সভার নোটিশ ই-ফাইলের মাধ্যমে ডিভিশন/প্রকল্প/ডিপার্টমেন্ট/কমিটিসমূহ কর্তৃক সম্পাদন করা হচ্ছে। ই-ফাইলের ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, পেট্রোবাংলা, অন্যান্য কোম্পানি, ভেন্ডর ও ঠিকাদার হতে আগত চিঠিপত্র ই-ফাইলে আপলোড করার জন্য একটি ফ্রন্ট ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া কোম্পানিতে  Enterprise Resource Planning (ERP)/ Enterprise Asset Management (EAM) Software System বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। ইতোমধ্যে ইআরপি সফটওয়ারের মাধ্যমে ডিজিটাল হাজিরা প্রদান, সকল প্রকার বিল, ছুটির অনুমোদনসহ এসেট ম্যানেজমেন্ট সংক্রান্ত কার্যাবলি সম্পাদন করা হচ্ছে। এর ফলে জিটিসিএল পেপার লেস অফিসের স্বীকৃতির থেকে এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছে।  জিটিসিএল-এর ওয়েবসাইটটি ডেভেলপ করা হয়েছে। প্রধান কার্যালয়ে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা প্রদানের লক্ষ্যে আইসিটি ডিপার্টমেন্ট কর্তৃক ইন্টারনেট এর গতি ১১৫ এমবিপিএস হতে ১৩৬ এমবিপিএস-এ উন্নীত করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের মধ্যে আন্তঃ যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৮+১৬৬ লাইনবিশিষ্ট একটি ডিজিটাল পিএবিএক্স প্রধান কার্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছে।