Message from Managing Director

/Message from Managing Director
Message from Managing Director 2021-06-07T17:07:54+06:00

জাতীয় গ্যাস গ্রিড এককেন্দ্রিক পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং দেশের সকল অঞ্চলে প্রাকৃতিক গ্যাসের সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় নতুন নতুন গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের মাধ্যমে জাতীয় গ্যাস গ্রিড সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে ১৯৯৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর কোম্পানি আইনের আওতায় পেট্রোবাংলার অধীনে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানী লিমিটেড (জিটিসিএল) প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর হতে এ কোম্পানি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে জাতীয় গ্যাস গ্রিড পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি নতুন নতুন এলাকাকে গ্যাস সরবরাহ নেটওয়ার্কের আওতায় আনার লক্ষ্যে বিভিন্ন উচ্চচাপসম্পন্ন গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণপূর্বক জাতীয় গ্যাস গ্রিড সম্প্রসারণ ও উন্নয়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এডিবি, বিশ্বব্যাংক, জাইকা, জিওবি, জিটিসিএল এর নিজস্বসহ পেট্রোবাংলার অধীনস্থ অন্যান্য কোম্পানির অর্থায়নে জিটিসিএল কর্তৃক ইতোমধ্যে ২৪টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে ২টি পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে আরও ০৮টি পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক পেট্রোবাংলাভুক্ত বিভিন্ন কোম্পানি হতে জিটিসিএল-এর নিকট হস্তান্তরিত ৫৪২.৩৭ কি.মি. গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন এবং ১৭৫ কি.মি.কনডেনসেট পাইপলাইন সহযোগে বর্তমানে কোম্পানির পরিচালনাধীন পাইপলাইনের দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে মোট ১৯৫০ কি.মি. এবং কনডেনসেট পাইলাইনের দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে সর্বমোট ১৯৩ কি.মি.। জিটিসিএল কর্তৃক ১৯৯৪ সালের ১ মার্চ থেকে প্রথম গ্যাস সঞ্চালন শুরু হয়, যার পরিমাণ ছিল গড়ে দৈনিক প্রায় ৪২ মিলিয়ন ঘনফুট। বর্তমানে জিটিসিএল কর্তৃক পরিচালিত গ্যাস গ্রিডের মাধ্যমে গ্যাস সঞ্চালনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দৈনিক প্রায় ২৫৭৭.০০ এমএমসিএফ, যা দেশের মোট উৎপাদিত গ্যাসের ৮৩.৩৪%। এছাড়া, গ্যাসের চাপ ও প্রবাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আশুগঞ্জে ৩টি এবং এলেঙ্গায় ৩টি কম্প্রেসর ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে, যার ফলে দেশের বিভিন্ন গ্যাস বিপণন কোম্পানির গ্রাহক প্রান্তে নির্দিষ্ট চাপ ও চাহিদা মোতাবেক অতিরিক্ত ১৫০-২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।

দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি বাংলাদেশ লিমিটেড (ইইবিএল) কর্তৃক কক্সবাজার জেলাধীন মহেশখালী দ্বীপের অদূরে গভীর সমুদ্রে ৫০০ এমএমএসসিএফডি ক্ষমতা সম্পন্ন Floating Storage and Re-gasification Unit (FSRU) স্থাপন কাজ সমাপ্ত হয়েছে। গত ১৮-০৮-২০১৮ তারিখ হতে কক্সবাজারের মহেশখালীতে স্থাপিত FSRU এর মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে ১০০ এমএমএসসিএফডি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালন শুরু করে পর্যায়ক্রমে ৩০০ এমএমএসসিএফডি গ্যাস কেজিডিসিএল সিস্টেমে সরবরাহ করা হয়। পরবর্তীতে আনোয়ারা-ফৌজদারহাট গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন প্রকল্পের আওতায় কর্ণফুলী নদী ক্রসিং সম্পন্নের পর অবশিষ্ট ২০০ এমএমএসসিএফডি গ্যাসসহ আরও অতিরিক্ত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালনের সক্ষমতা অর্জিত হয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সামিট করপোরেশন লিমিটেড (এসসিএল) কর্তৃক গভীর সমুদ্রে ৫০০ এমএমএসসিএফডি ক্ষমতা সম্পন্ন আরও একটি FSRU স্থাপনার কাজ এপ্রিল, ২০১৯ সালে সম্পন্ন হয়। গত ২৯-০৪-২০১৯ হতে উক্ত FSRU হতে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সঞ্চালন শুরু হয়েছে। এতদ্ব্যতীত, মহেশখালী, কুতুবদীয়া ও পটুয়াখালী জেলার পায়রা সমুদ্র বন্দরের সন্নিকটে বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি ও বৈদেশিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আরো একাধিক ভাসমান/স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে আমদানিকৃত এলএনজি জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্যে মহেশখালী-আনোয়ারা গ্যাস সঞ্চালন সমান্তরাল পাইপলাইন, মহেশখালী জিরো পয়েন্ট (কালাদিয়ার চর)- সিটিএমএস (ধলঘাট পাড়া) গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন, চট্টগ্রাম-ফেনী-বাখরাবাদ গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন ও ধনুয়া-নলকা এবং বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমপাড়-নলকা গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ কার্যক্রম ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। উক্ত পাইপলাইনের মাধ্যমে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ৫৭৪৪.৮৮ এমএমএসসিএম আরএলএনজি জাতীয় গ্যাস গ্রীডের মাধ্যমে সঞ্চালন করা হয়েছে। এছাড়া, দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নেটওয়ার্ক স্থাপনের লক্ষ্যে বগুড়া-রংপুর-সৈয়দপুর গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামোর আওতায় প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়নে কোম্পানি বলিষ্ঠ ভূমিকা অব্যাহত রেখেছে। সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণের ক্ষেত্রে জিটিসিএল অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছে। বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় কোম্পানিতে ইতোম্যধ্যই ইআরপি/ইআরএম সিস্টেম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে ইআরপি সিস্টেমের ৬ (ছয়) টি মডিউলের মাধ্যমে কর্মকর্তা/কর্মচারীদের সকল প্রকার তথ্য সংরক্ষণ/হালনাগাদকরণ, ডিজিটাল এ্যাটেন্ডেন্স সিস্টেমের মাধ্যমে হাজিরা গ্রহণকরত: মাসিক বেতন-ভাতাদি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে, ইনভেন্টরি সিস্টেমের মাধ্যমে স্টোর হতে মালামাল ইস্যু, মালামাল ক্রয়/গ্রহণ/প্রদান, যানবাহন মেরামত, কম্প্রেসর স্টেশনসমূহের ডাটা ইনট্রিগেশন, প্রকল্পসমূহের এডিপি/আরএডিপি বরাদ্দ অনুযায়ী সকল ক্রয় কার্যক্রম সম্পাদন, বিল প্রদান, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের চাহিদানুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন ও বিভিন্ন তথ্যাদি বার-চার্ট/গ্রাফের মাধ্যমে সিস্টেম হতে প্রদর্শন করা সম্ভব হচ্ছে। স্কাডা সিস্টেমের মাধ্যমে গ্যাসের উৎপাদন, চাপ, তাপমাত্রা ইত্যাদি তথ্য, জাতীয় গ্যাস গ্রিডের মাধ্যমে বিভিন্ন গ্যাস বিতরণ কোম্পানিতে গ্যাসের সরবরাহ সার্বক্ষণিকভাবে কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করা এবং লোড ব্যালেন্সিং এর মাধ্যমে গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তি, ই-ফাইলিং কার্যক্রম, ই-জিপি সিস্টেমের আওতায় দরপত্র প্রক্রিয়াকরণ, বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির আওতায় জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল, উদ্ভাবনী এবং বার্ষিক কর্মসম্পাদন সংক্রান্ত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণের উপরও কোম্পানি বিশেষ গুরুত্বারোপ করছে। অদূর ভবিষ্যতে কোম্পানিকে একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে উন্নীতকরণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কর্মকর্তা/কর্মচারীদের চাকুরীগত বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়িত/বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। বিগত অর্থবছরে কর্পোরেট সোস্যাল রেসপনসিবিলিটির আওতায় বিভিন্ন সংস্থা/প্রতিষ্ঠান/ব্যক্তিকে আর্থিক অনুদান প্রদান করে কোম্পানি সামাজিক দায়িত্ব পালন অব্যাহত রেখেছে।

জিটিসিএল পরিচালিত পাইপলাইন ও স্থাপনাসমূহের নির্ধারিত ডেলিভারি পয়েন্ট দ্বারা ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে তিতাস, বাখরাবাদ, কর্ণফুলী, জালালাবাদ, পশ্চিমাঞ্চল ও সুন্দরবন গ্যাস বিতরণ কোম্পানির অধিভুক্ত এলাকায় সর্বমোট ২৫,২৭৬,৫৩ মিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ করা হয় এবং উত্তর-দক্ষিণ কনডেনসেট পাইপলাইনের মাধ্যমে বিবিয়ানা গ্যাস ক্ষেত্র হতে ২৩৩.৬৮ মিলিয়ন লিটার কনডেনসেট পরিবহন করে মোট ১০৯৩.৮৩ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করেছে। এ সময়ে পরিচালন ব্যয় বাবদ মোট ৬২৬.৭৯ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। কোম্পানির কর পূর্ব মুনাফার পরিমাণ ৩০৪.৫৭ কোটি টাকা। এ অর্থবছরে কোম্পানি কর্তৃক সর্বমোট ৬৪৫.৯৯ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করেছে। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে কোম্পানির স্থায়ী সম্পদের উপর মুনাফার হার (RoR) হয়েছে ৪.৭৩%, যা ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ৫.৫৮% ছিল।

কোম্পানির উল্লিখিত অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে ও বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে জিটিসিএল পরিচালনা পর্ষদ, পেট্রোবাংলা, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাসমূহের সময়োপযোগী সহযোগিতা, দিক-নির্দেশনা ও পরামর্শ আমি কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করছি। এছাড়া, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের পক্ষ হতে সময়োপযোগী সহযোগিতা প্রদানের জন্য আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। কোম্পানির সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ নিষ্ঠার সাথে তাঁদের উপর অর্পিত দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করে জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় আমি সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই এবং আশা করি আগামীতেও তাঁদের এ সম্মিলিত প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।

পরম করুণাময় আল্লাহ্‌তা’আলার নিকট কোম্পানির উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করছি।

 

 

ব্যবস্থাপনা পরিচালক
গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানী লিমিটেড (জিটিসিএল)