Message from Managing Director

/Message from Managing Director
Message from Managing Director 2021-11-30T09:49:10+06:00

জাতীয় গ্যাস গ্রিড এককেন্দ্রিক পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং দেশের সকল অঞ্চলে প্রাকৃতিক গ্যাসের সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় নতুন নতুন গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের মাধ্যমে জাতীয় গ্যাস গ্রিড সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে ১৯৯৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর কোম্পানি আইনের আওতায় পেট্রোবাংলার অধীনে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানী লিমিটেড (জিটিসিএল) প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর হতে এ কোম্পানি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে জাতীয় গ্যাস গ্রিড পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি নতুন নতুন এলাকাকে গ্যাস সরবরাহ নেটওয়ার্কের আওতায় আনার লক্ষ্যে বিভিন্ন উচ্চচাপসম্পন্ন গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণপূর্বক জাতীয় গ্যাস গ্রিড সম্প্রসারণ ও উন্নয়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এডিবি, বিশ্বব্যাংক, জাইকা, জিওবি, জিটিসিএল এর নিজস্বসহ পেট্রোবাংলার অধীনস্থ অন্যান্য কোম্পানির অর্থায়নে জিটিসিএল কর্তৃক ইতোমধ্যে ২৮টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে ৭টি পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে আরও ০৭টি পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক পেট্রোবাংলাভুক্ত বিভিন্ন কোম্পানি হতে জিটিসিএল-এর নিকট হস্তান্তরিত ৫৪২.৩৭ কি.মি. গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন এবং ১৭৫ কি.মি.কনডেনসেট পাইপলাইন সহযোগে বর্তমানে কোম্পানির পরিচালনাধীন গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইনের দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে মোট ২০১৭ কি.মি. এবং কনডেনসেট পাইলাইনের দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে সর্বমোট ১৯৩ কি.মি.। জিটিসিএল কর্তৃক ১৯৯৪ সালের ১ মার্চ থেকে প্রথম গ্যাস সঞ্চালন শুরু হয়, যার পরিমাণ ছিল গড়ে দৈনিক প্রায় ৪২ মিলিয়ন ঘনফুট। বর্তমানে জিটিসিএল কর্তৃক পরিচালিত গ্যাস গ্রিডের মাধ্যমে গ্যাস সঞ্চালনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দৈনিক প্রায় ২৮৫৪ মিলিয়ন ঘনফুট, যা দেশের মোট উৎপাদিত গ্যাসের ৮৪.৮৬%। এর মধ্যে বিজিএফসিএল, এসজিএফএল, বাপেক্স, শেভরণ, তাল্লো, এক্সিলারেট এনার্জি ,সামিট হতে দৈনিক যথাক্রমে ৪৪০, ৮৬ ,৫৫, ১৩০৫, ৬৬, ৩৪১, ৫৬১, মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জিটিসিএল সিস্টেমের মাধ্যমে সঞ্চালিত হচ্ছে। জিটিসিএল পরিচালিত পাইপলাইন ও স্থাপনাসমূহের নির্ধারিত ডেলিভারি পয়েন্ট দ্বারা ২০২০-২১ অর্থবছরে ৬টি বিতরণ কোম্পানিতে ২৫,৫৯৭.১৭ মিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ করা হয় তন্মধ্যে তিতাস সিস্টেমে ৬২.৩৭%, বাখরাবাদে ১০.৩১% , কর্ণফুলীতে ১২.৩৮%, জালালাবাদে ৬.৬৬%, পশ্চিমাঞ্চলে ৬.২১% ও সুন্দরবনে ২.০৭%। দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাস চাহিদা পূরণকল্পে জিটিসিএল কর্তৃক বিগত ৫ বছরে ৩০”, ৩৬” ও ৪২” ব্যাসের সর্বমোট ৫৭৬ কিঃমিঃ গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়েছে। দেশের উত্তরাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যে বগুড়া-রংপুর -সৈয়দপুর গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া, গ্যাসের চাপ ও প্রবাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আশুগঞ্জে ৩টি এবং এলেঙ্গায় ৩টি কম্প্রেসর ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে, যার ফলে দেশের বিভিন্ন গ্যাস বিপণন কোম্পানির গ্রাহক প্রান্তে নির্দিষ্ট চাপ ও চাহিদা মোতাবেক অতিরিক্ত ১৫০-২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।

জ্বালানি সংকট দ্রুত মোকাবেলায় গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে সরকার কর্তৃক বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানির করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কক্সবাজারের মহেশখালীতে দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট ক্ষমতাসম্পন্ন ২টি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপন করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও ভাসমান/স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। আমদানিকৃত এলএনজি থেকে প্রাপ্তব্য গ্যাস (আরএলএনজি) সরবরাহের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে মহেশখালী-আনোয়ারা গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্প, আনোয়ারা-ফৌজদারহাট গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্প, মহেশখালী জিরো পয়েন্ট গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন প্রকল্প, মহেশখালী-আনোয়ারা গ্যাস সঞ্চালন সমান্তরাল পাইপলাইন প্রকল্প ও চট্টগ্রাম-ফেনী-বাখরাবাদ গ্যাস সঞ্চালন সমান্তরাল পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। উক্ত পাইপলাইনসমূহের মাধ্যমে ২০২০-২১ অর্থবছরে ৬১১৯.২৪ মিলিয়ন ঘনমিটার আরএলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে।

২০২০-২০২১ অর্থবছরে কোম্পানি মোট ২৫,৫৯৭.১৭ মিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস ও ৩৬১.৩৩ মিলিয়ন লিটার কনডেনসেট পরিবহন করে মোট ১১২০.১৭ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করেছে। এ সময়ে পরিচালন ব্যয় বাবদ মোট ৭৪৬.৭২ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। কোম্পানির কর পূর্ব মুনাফার পরিমাণ ২৩৭.৮৫ কোটি টাকা। এ অর্থবছরে কোম্পানি কর্তৃক সর্বমোট ৭৫৩.১৭ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করেছে। ২০২০-২০২১ অর্থবছরে কোম্পানির স্থায়ী সম্পদের উপর মুনাফার হার (RoR) হয়েছে ৩.৭৬%, যা ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ৪.৭৩% ছিল।

অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামোর আওতায় প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়নে কোম্পানি বলিষ্ঠ ভূমিকা অব্যাহত রেখেছে। তথ্যপ্রযুক্তি, ই-ফাইলিং কার্যক্রম, ইআরপি, জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল, বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির আওতায় সকল কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণের উপরও কোম্পানি বিশেষ গুরুত্বারোপ করছে। অদূর ভবিষ্যতে কোম্পানিকে একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে উন্নীতকরণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কর্মকর্তা/কর্মচারীদের চাকরিগত বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়িত/বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

কোম্পানির উল্লিখিত অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে ও বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে জিটিসিএল পরিচালনা পর্ষদ, পেট্রোবাংলা, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাসমূহের সময়োপযোগী সহযোগিতা, দিক-নির্দেশনা ও পরামর্শ আমি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছি। এছাড়া, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ হতে সময়োপযোগী সহযোগিতা প্রদানের জন্য আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। কোম্পানির সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ নিষ্ঠার সাথে তাঁদের উপর অর্পিত দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করে জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় আমি সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই এবং আশা করি আগামীতেও তাদের এ সম্মিলিত প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।

পরম করুণাময় আল্লাহ্ তা’আলার নিকট কোম্পানির উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করছি।

প্রকৌ. রুখসানা নাজমা ইছহাক
ব্যবস্থাপনা পরিচালক
গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানী লিমিটেড (জিটিসিএল)