Message from Managing Director

/Message from Managing Director
Message from Managing Director 2019-04-28T12:03:39+06:00

জাতীয় গ্যাস গ্রিড এককেন্দ্রিক পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং দেশের সকল অঞ্চলে প্রাকৃতিক গ্যাসের সুষম ব্যবহার নিশ্চিতকল্পে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় নতুন নতুন পাইপলাইন নির্মাণের মাধ্যমে জাতীয় গ্যাস গ্রিড সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে ১৯৯৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর কোম্পানি আইনের আওতায় পেট্রোবাংলার অধীনে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানী লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর হতে এ কোম্পানি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে জাতীয় গ্যাস গ্রিড পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি নতুন নতুন এলাকাকে গ্যাস সরবরাহ নেটওয়ার্কের আওতায় আনার লক্ষ্যে বিভিন্ন উচ্চচাপসম্পন্ন গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণপূর্বক জাতীয় গ্যাস গ্রিড সম্প্রসারণ ও উন্নয়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করছে। প্রতিষ্ঠালগ্নে পেট্রোবাংলার প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিট (পিআইইউ) কর্তৃক নির্মিত ২৪ ইঞ্চি ব্যাসের ১৭৫ কি.মি. দীর্ঘ উত্তর-দক্ষিণ গ্যাস পাইপলাইন ও ৬” ব্যাসের ১৭৫ কি.মি. কনডেনসেট পাইপলাইন পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব জিটিসিএল-এর উপর ন্যস্ত করা হয়। উক্ত পাইপলাইন এবং পরবর্তীকালে বিভিন্ন পর্যায়ে জিটিসিএল কর্তৃক ২১টি প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে নির্মিত ১১০৯.০০ কি.মি. ও সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক পেট্রোবাংলাভুক্ত অন্যান্য কোম্পানি হতে জিটিসিএল-এর নিকট হস্তান্তরিত ৩৬৭.৩৭ কি.মি. গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন এবং ১৭৫ কি.মি. কনডেনসেট পাইপলাইন সহযোগে বর্তমানে কোম্পানির পরিচালনাধীন পাইপলাইনের দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে সর্বমোট ১৬৫১.৪০ কি.মি.।

দেশে তেল-গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার গ্যাসের দৈনিক উৎপাদন ১,৭৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট হতে ২,৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত করেছে। জিটিসিএল কর্তৃক ১৯৯৪ সালের ১ মার্চ থেকে প্রথম গ্যাস সঞ্চালন শুরু হয়, যার পরিমাণ ছিল দৈনিক গড়ে প্রায় ৪২ মিলিয়ন ঘনফুট। বর্তমানে জিটিসিএল কর্তৃক পরিচালিত গ্যাস গ্রিডের মাধ্যমে গ্যাস সঞ্চালনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দৈনিক প্রায় ২১৪২ মিলিয়ন ঘনফুট, যা দেশের মোট উৎপাদিত গ্যাসের ৭৯.৩৩%। এর মধ্যে বিজিএফসিএল, এসজিএফএল, বাপেক্স, শেভরণ ও তাল্লো হতে যথাক্রমে দৈনিক ৩৬১, ১২৫, ৮৪, ১৪৭২ ও ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জিটিসিএল সিস্টেমের মাধ্যমে সঞ্চালিত হচ্ছে। জিটিসিএল কর্তৃক গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন গ্রিড থেকে টিজিটিডিসিএল-কে ৬৭.৫%, কেজিডিসিএল-কে ১১%, বিজিডিসিএল-কে ১১%, জেজিটিডিসিএল-কে ০৬%, পিজিসিএল-কে ০৪% এবং এসজিসিএল-কে ০.৫% গ্যাস সরবরাহ করা হয়। দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাস চাহিদা পূরণকল্পে জিটিসিএল কর্তৃক বিগত ১০ বৎসরে ১০”, ১২”, ২০”, ২৪”, ৩০” ও ৩৬” ব্যাসের সর্বমোট ৮৬২ কি.মি. গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া, গ্যাসের চাপ ও প্রবাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে শুগঞ্জে ৩টি এবং এলেঙ্গায় ৩টি কম্প্রেসর ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে যার ফলে দেশের বিভিন্ন গ্যাস বিপণন কোম্পানির গ্রাহক প্রান্তে নির্দিষ্ট চাপ ও চাহিদা মোতাবেক অতিরিক্ত ১৫০-২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।

জিটিসিএল পরিচালিত পাইপলাইন ও স্থাপনাসমূহের নির্ধারিত ডেলিভারি পয়েন্ট দ্বারা ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে তিতাস, বাখরাবাদ, কর্ণফুলী, জালালাবাদ, পশ্চিমাঞ্চল ও সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির অধিভুক্ত এলাকায় সর্বমোট ২১,৯১১.৪৩ মিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ করা হয় এবং উত্তর-দক্ষিণ কনডেনসেট পাইপলাইনের মাধ্যমে বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র হতে ৩৩৮.০৩৭ মিলিয়ন লিটার কনডেনসেট পরিবহন করা হয়। কোম্পানি কর্তৃক এপ্রিল ১৯৯৪ থেকে জুন, ২০১৮ পর্যন্ত মোট ২১টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং বর্তমানে ০৫টি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। উক্ত প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৩৫৭.০০ কি.মি. গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন জিটিসিএল গ্যাস গ্রিডে যুক্ত হবে।

জ্বালানি সংকট দ্রুত মোকাবেলায় গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে সরকার বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী বিদেশ হতে আমদানিকৃত এলএনজি থেকে প্রাপ্তব্য গ্যাস, দেশের স্থলভাগের বিভিন্ন গ্যাস ক্ষেত্র হতে প্রাপ্তব্য প্রাকৃতিক গ্যাস ও গভীর/অগভীর সমুদ্রে আহরিতব্য গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে নির্মিত মহেশখালী-আনোয়ারা গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্প, আনোয়ারা-ফৌজদারহাট গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্প এবং বাস্তবায়নাধীন মহেশখালী জিরো পয়েন্ট গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন, মহেশখালী-আনোয়ারা গ্যাস সঞ্চালন সমান্তরাল পাইপলাইন প্রকল্প ও চট্টগ্রাম-ফেনী-বাখরাবাদ গ্যাস সঞ্চালন সমান্তরাল পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্প নির্মাণের মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জিটিসিএল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উল্লেখ্য, যে কক্সবাজারের মহেশখালীতে দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট ক্ষমতাসম্পন্ন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপন করা হয়েছে এবং জিটিসিএল কর্তৃক নির্মিত গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে আরএলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে কোম্পানি মোট ২১,৯১১.৪৩ মিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস ও ৩৩৮.০৩ মিলিয়ন লিটার কনডেনসেট পরিবহন করে মোট ৬১৫.৩৩ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করেছে। এ সময়ে পরিচালন ব্যয় বাবদ মোট ৩৬৮.৭২ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। কোম্পানির কর পূর্ব মুনাফার পরিমাণ ২২৩.২১ কোটি টাকা। এ অর্থবছরে কোম্পানি কর্তৃক সর্বমোট ৫০৩.৫৯ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করেছে। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে কোম্পানির স্থায়ী সম্পদের উপর মুনাফার হার (RoR) হয়েছে ৪.৩৮%, যা ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে ১.৬৩% ছিল।

অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামোর আওতায় প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়নে কোম্পানি বলিষ্ঠ ভূমিকা অব্যাহত রেখেছে। তথ্যপ্রযুক্তি, ই-ফাইলিং কার্যক্রম, বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির আওতায় জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল, উদ্ভাবনী এবং বার্ষিক কর্মসম্পাদন সংক্রান্ত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণের উপরও কোম্পানি বিশেষ গুরুত্বারোপ করছে। অদূর ভবিষ্যতে কোম্পানিকে একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে উন্নীতকরণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কর্মকর্তা/কর্মচারীদের চাকরিগত বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়িত/বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। বিগত অর্থবছরে কর্পোরেট সোস্যাল রেসপনসিবিলিটির আওতায় কোম্পানির তহবিল হতে বিভিন্ন সংস্থা/প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক অনুদান প্রদান করে কোম্পানি সামাজিক দায়িত্ব পালন অব্যাহত রেখেছে।

কোম্পানির উল্লিখিত অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে ও বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে জিটিসিএল পরিচালনা পর্ষদ, পেট্রোবাংলা, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাসমূহের সময়োপযোগী সহযোগীতা, দিক-নির্দেশনা ও পরামর্শ আমি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছি। এছাড়া, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ হতে সময়োপযোগী সহযোগীতা প্রদানের জন্য আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। কোম্পানির সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ নিষ্ঠার সাথে তাঁদের উপর অর্পিত দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করে জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় আমি সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই এবং আশা করি আগামীতেও তাদের এ সম্মিলিত প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।

পরম করুণাময় আল্লাহ্ তা’আলার নিকট কোম্পানির উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করছি।