Message from Managing Director

/Message from Managing Director
Message from Managing Director 2019-12-26T12:12:24+06:00

জাতীয় গ্যাস গ্রিড এককেন্দ্রিক পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং দেশের সকল অঞ্চলে প্রাকৃতিক গ্যাসের সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় নতুন নতুন গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের মাধ্যমে জাতীয় গ্যাস গ্রিড সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে ১৯৯৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর কোম্পানি আইনের আওতায় পেট্রোবাংলার অধীনে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানী লিমিটেড (জিটিসিএল) প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর হতে এ কোম্পানি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে জাতীয় গ্যাস গ্রিড পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি নতুন নতুন এলাকাকে গ্যাস সরবরাহ নেটওয়ার্কের আওতায় আনার লক্ষ্যে বিভিন্ন উচ্চচাপসম্পন্ন গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণপূর্বক জাতীয় গ্যাস গ্রিড সম্প্রসারণ ও উন্নয়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এডিবি, বিশ্বব্যাংক, জাইকা, জিওবি, জিটিসিএল এর নিজস্বসহ পেট্রোবাংলার অধীনস্থ অন্যান্য কোম্পানির অর্থায়নে জিটিসিএল কর্তৃক ইতোমধ্যে ২৪টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বিগত অর্থ বছরে কোম্পানির আওতায় ৩টি প্রকল্প যথা: বাখরাবাদ-সিদ্ধিরগঞ্জ গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্প, স্কাডা রিহেবিলিটেশন প্রকল্প এবং আনোয়ারা-ফৌজদারহাট গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। বর্তমানে ৬টি পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে আরও ১১টি পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক পেট্রোবাংলাভুক্ত বিভিন্ন কোম্পানি হতে জিটিসিএল-এর নিকট হস্তান্তরিত ৫৪২.৩৭ কি.মি. গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন এবং ১৭৫ কি.মি.কনডেনসেট পাইপলাইন সহযোগে বর্তমানে কোম্পানির পরিচালনাধীন পাইপলাইনের দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে মোট ১৬৮১ কি.মি. এবং কনডেনসেট পাইলাইনের দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে সর্বমোট ১৯৩ কি.মি.। জিটিসিএল কর্তৃক ১৯৯৪ সালের ১ মার্চ থেকে প্রথম গ্যাস সঞ্চালন শুরু হয়, যার পরিমাণ ছিল গড়ে দৈনিক প্রায় ৪২ মিলিয়ন ঘনফুট। বর্তমানে জিটিসিএল কর্তৃক পরিচালিত গ্যাস গ্রিডের মাধ্যমে গ্যাস সঞ্চালনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দৈনিক প্রায় ২৫৩৫.৯৯ মিলিয়ন ঘনফুট, যা দেশের মোট উৎপাদিত গ্যাসের ৮৩.০৬%। এছাড়া, গ্যাসের চাপ ও প্রবাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আশুগঞ্জে ৩টি এবং এলেঙ্গায় ৩টি কম্প্রেসর ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে, যার ফলে দেশের বিভিন্ন গ্যাস বিপণন কোম্পানির গ্রাহক প্রান্তে নির্দিষ্ট চাপ ও চাহিদা মোতাবেক অতিরিক্ত ১৫০-২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। জিটিসিএল পরিচালিত পাইপলাইন ও স্থাপনাসমূহের নির্ধারিত ডেলিভারি পয়েন্ট দ্বারা ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে তিতাস, বাখরাবাদ, কর্ণফুলী, জালালাবাদ, পশ্চিমাঞ্চল ও সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির অধিভুক্ত এলাকায় সর্বমোট ২৪,৭৮৬.৫৪ মিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ করা হয় এবং উত্তর-দক্ষিণ কনডেনসেট পাইপলাইনের মাধ্যমে বিবিয়ানা গ্যাস ক্ষেত্র হতে ২৪৯.৫৯ মিলিয়ন লিটার কনডেনসেট পরিবহন করা হয়।

দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি বাংলাদেশ লিমিটেড (ইইবিএল) কর্তৃক কক্সবাজার জেলাধীন মহেশখালী দ্বীপের অদূরে গভীর সমুদ্রে ৫০০ এমএমএসসিএফডি ক্ষমতা সম্পন্ন Floating Storage and Re-gasification Unit (FSRU) স্থাপন কাজ সমাপ্ত হয়েছে। গত ১৮-০৮-২০১৮ তারিখ হতে কক্সবাজারের মহেশখালীতে স্থাপিত FSRU এর মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে ১০০ এমএমএসসিএফডি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালন শুরু করে পর্যায়ক্রমে ৩০০ এমএমএসসিএফডি গ্যাস কেজিডিসিএল সিস্টেমে সরবরাহ করা হয়। পরবর্তীতে আনোয়ারা-ফৌজদারহাট গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন প্রকল্পের আওতায় কর্ণফুলী নদী ক্রসিং সম্পন্নের পর অবশিষ্ট ২০০ এমএমএসসিএফডি গ্যাসসহ আরও অতিরিক্ত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালনের সক্ষমতা অর্জিত হয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সামিট করপোরেশন লিমিটেড (এসসিএল) কর্তৃক গভীর সমুদ্রে ৫০০ এমএমএসসিএফডি ক্ষমতা সম্পন্ন আরও একটি FSRU স্থাপনার কাজ এপ্রিল, ২০১৯ সালে সম্পন্ন হয়। গত ২৯-০৪-২০১৯ হতে উক্ত FSRU হতে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সঞ্চালন শুরু হয়েছে। এতদ্ব্যতীত, মহেশখালী, কুতুবদীয়া ও পটুয়াখালী জেলার পায়রা সমুদ্র বন্দরের সন্নিকটে বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি ও বৈদেশিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আরো একাধিক ভাসমান/স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে আমদানিকৃত এলএনজি জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্যে মহেশখালী-আনোয়ারা গ্যাস সঞ্চালন সমান্তরাল পাইপলাইন, মহেশখালী জিরো পয়েন্ট গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন, চট্টগ্রাম-ফেনী-বাখরাবাদ গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন ও ধনুয়া-নলকা এবং বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমপাড়-নলকা গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া, দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নেটওয়ার্ক স্থাপনের লক্ষ্যে বগুড়া-রংপুর-সৈয়দপুর গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে কোম্পানি মোট ২৪,৭৮৬.৫৪ মিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস ও ২৪৯.৫৯ মিলিয়ন লিটার কনডেনসেট পরিবহন করে মোট ৯৯৭.৬৫ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করেছে। এ সময়ে পরিচালন ব্যয় বাবদ মোট ৫৪৯.২৩ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। কোম্পানির কর পূর্ব মুনাফার পরিমাণ ৩২০.৮৯ কোটি টাকা। এ অর্থ বছরে কোম্পানি কর্তৃক সর্বমোট ৭৪৮.১৯ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করা হয়েছে। ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে কোম্পানির স্থায়ী সম্পদের উপর মুনাফার হার (RoR) হয়েছে ৫.৫৮%, যা ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে ৪.৩৮% ছিল। জিটিসিএল ২০১৮-২০১৯ কর বছরে ‘জ্বালানি’ শ্রেণিতে ৩য় সর্বোচ্চ আয়কর প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।

অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামোর আওতায় প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়নে কোম্পানি বলিষ্ঠ ভূমিকা অব্যাহত রেখেছে। তথ্য প্রযুক্তি, ই-ফাইলিং কার্যক্রম, বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির আওতায় জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল, উদ্ভাবনী এবং বার্ষিক কর্মসম্পাদন সংক্রান্ত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণের উপরও কোম্পানি বিশেষ গুরুত্বারোপ করছে। অদূর ভবিষ্যতে কোম্পানিকে একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে উন্নীতকরণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কর্মকর্তা/কর্মচারিদের চাকুরীগত বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়িত/বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। বিগত অর্থ বছরে কর্পোরেট সোস্যাল রেসপনসিবিলিটির আওতায় বিভিন্ন সংস্থা/প্রতিষ্ঠান/ব্যক্তিকে আর্থিক অনুদান প্রদান করে কোম্পানি সামাজিক দায়িত্ব পালন অব্যাহত রেখেছে।

কোম্পানির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান করায় জিটিসিএল পরিচালনা পর্ষদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন, যৌথমূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, পেট্রোবাংলা ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাসমূহকে আমি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছি এবং সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। এছাড়া, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ হতে সময়োপযোগী সহযোগিতা প্রদানের জন্য আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। কোম্পানির ভবিষ্যত কর্মকান্ডে আপনাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। একই সাথে কোম্পানির সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারি যারা নিরলস পরিশ্রম, মেধা, কর্তব্যপরায়নতা ও দক্ষতার সাথে অর্পিত দায়িত্ব সুষ্ঠভাবে সম্পাদন করে কোম্পানির অগ্রযাত্রায় অনন্য অবদান রেখেছেন তাদের সকলকে জানাচ্ছি আন্তরিক অভিনন্দন এবং আশা করি আগামী দিনগুলোতেও তাদের এ সম্মিলিত প্রয়াস অব্যাহত রেখে জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

পরিশেষে আমি কোম্পানির উত্তরোত্তর উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য পরম করুণাময় আল্লাহ্তায়ালার নিকট সাহায্য কামনা করছি।